১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ PM
মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলোতে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে পৃথক দুটি ঘটনায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) সাবেক শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা রিজু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। জানা গেছে, বিকেলে নিজ বাসার ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
রিজুর পরিবারে স্বামী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার স্বামী মো. রাশিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক। বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল শোক প্রকাশ করে বলেন, “রিজুর অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপা দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সহপাঠী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দীপা দাসের সহপাঠীরা জানান, তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। সহপাঠী জেরভাস বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার পুরো কারণ এখনও পরিষ্কার নয়, তবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।” আরেক সহপাঠী রিফাত ইসলাম বলেন, “তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিহত দীপার পরিবার ও স্বামীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন