নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ৮:১৭
সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে হতদরিদ্র পরিবার ও নারী সদস্যদের। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাঠামো নির্ধারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ শুরু করেছে। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বৈঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে—ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে এবং সুবিধাভোগী নির্ধারণে হতদরিদ্র পরিবার ও নারীদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, পরবর্তী ধাপে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কীভাবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
এদিকে, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত এ কমিটি কর্মসূচির নকশা, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি এবং বাস্তবায়ন কাঠামো প্রণয়ন করবে।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালু করা, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডারের মধ্যে সমন্বিত ডিজিটাল এমআইএস (Management Information System) প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো সুযোগ থাকবে না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকেও যুক্ত করা হবে না। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সামাজিক ভাতা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, সরাসরি নগদ সহায়তা ও স্বচ্ছ ডাটাবেজভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন