নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ৮:১৮
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সমতা প্রতিষ্ঠাই মহান একুশের মূল চেতনা। ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনাকে ধারণ করেই দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের এ দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ অনেকে। তাঁদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই তৎকালীন পূর্ব বাংলার শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তির প্রথম সোপান রচিত হয়। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন কেবল ভাষার মর্যাদা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, একুশের রক্তাক্ত পথ ধরেই পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন, আর মাতৃভাষার জন্য বাঙালির ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। আজ একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে সব ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সংরক্ষণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা শহীদ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিকাশ এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সব ভাষা শহীদের মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন