সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতার হার বৃদ্ধি, হ্রাস বা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কার্যকরী কমিটি (ওয়ার্কিং কমিটি) গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, কমিটি নিয়মিতভাবে মোট ছয়টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পর্যালোচনা করবে। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চারটি কর্মসূচি রয়েছে— বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম। পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-ও এই পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
ভাতার হার নির্ধারণ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভোক্তা মূল্যসূচককে বেঞ্চমার্ক অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কমিটি বছরে অন্তত একবার ভাতার হার পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন অর্থ সচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে সেই প্রতিবেদন সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এ আদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা আগের একটি অফিস আদেশ বাতিল করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে – যুগ্মসচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, যুগ্মসচিব (কার্যক্রম) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুগ্মসচিব (কার্যক্রম) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুগ্মসচিব (ত্রাণ কর্মসূচি অধিশাখা), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, যুগ্মপ্রধান/যুগ্মসচিব (সামষ্টিক ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুবিভাগ) সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ পরিকল্পনা কমিশন, যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা অধিশাখা) পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, পরিচালক মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, পরিচালক (ন্যাশনাল একাউন্টিং উইং) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সদস্য, পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) সমাজসেবা অধিদফতর এবং পরিচালক (কাবিখা) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

✍️ মন্তব্য লিখুন