কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৩
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ সফরের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান।
দিনের শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সরকারের চলতি মেয়াদে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এরপর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সংলাপের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সচিবালয়ে পৃথক বৈঠক
দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ–এর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে পল কাপুরের। বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার বিষয়গুলো এসব আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
সন্ধ্যায় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সফর উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর–এর সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এই মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
প্রথম বাংলাদেশ সফর
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই পল কাপুরের প্রথম বাংলাদেশ সফর। মূলত ঢাকা-ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুসংহত করা এবং চলমান সহযোগিতা কাঠামোকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর এ সফর।
সূত্রগুলো বলছে, সফরে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ভিসা নীতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার থাকতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আরট)’ বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এই সফর দুই দেশের কৌশলগত সংলাপকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও ফলপ্রসূ করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন