নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ও জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের স্পটমূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর কথা জানান। পাশাপাশি যুদ্ধ অবসানে আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিত বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছে। এতে জ্বালানির দাম ঘিরে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়।
ডলারের দুর্বলতাও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়। ফলে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম কমে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসতে পারে। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা জোরালো হলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আবার বাড়ানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং আসন্ন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্য স্বর্ণের বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছায়। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারদর সরাসরি একই হারে পরিবর্তিত হয় না। স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।
✍️ মন্তব্য লিখুন