নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনসমক্ষে এলে তা বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করা হতো।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী।
মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে রফিকুল ইসলাম বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এলে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্তের নামে লোকদেখানো কার্যক্রম চালানো হতো। প্রকৃত অপরাধীরা যাতে আড়ালে থেকে যেতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রিত তদন্ত পরিচালনা করা হতো বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে মিথ্যা ও ভুল সুরতহাল, ময়নাতদন্ত এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল এবং দায়ীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান রফিকুল ইসলাম।
গুম ও হত্যার অভিযোগ ১০৪ জনকে নিয়ে
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১০৪ জনকে গুম ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের হত্যা করা হয়েছে এবং কিছু হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্রসফায়ার’ বা বনদস্যু দমনের অভিযানের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর জবানবন্দিতে এসব ঘটনার ধরন ও তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন।
তবে জিয়াউল আহসান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের।
তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ, জেরা বাকি
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ৮ অক্টোবর তিনি তৃতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের শেষ সাক্ষী হিসেবে তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষ তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে জেরা করবে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা শেষে বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হবে।
মামলাটিতে এখন পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন