নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এক অসহায় ও পিতৃহীন তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। গত ২৪ বছরে নিজ উদ্যোগে ১০৯ জন অসচ্ছল ও এতিম কন্যার বিয়ে সম্পন্ন করে তিনি সমাজসেবার এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের মৃত দিনমজুর জালাল মোল্যার মেয়ে রাবেয়ার বিয়ে সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা পারভেজ মিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত হয়। আট বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর মা হেনা বেগমকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন রুবেল। স্থানীয় একটি সমিতির মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি রাবেয়ার বাড়িতে যান এবং বিয়ের যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দেন। পরে নিজের মেয়ের বিয়ের মতো করেই সব আয়োজন সম্পন্ন করেন।
গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত বিয়েতে প্রায় দেড় শতাধিক অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। হলুদ সন্ধ্যা, বরণ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন জাঁকজমকপূর্ণ একটি বিয়ে এলাকায় উৎসবের আবহ সৃষ্টি করেছে।
রুহুল আমিন রুবেল বলেন, রাবেয়া তাঁর ১০৯তম কন্যা। ২০০২ সাল থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও পিতৃহীন মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আসছেন। তিনি মনে করেন, সমাজের বিত্তবানরা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এলে দরিদ্র মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
রাবেয়ার মা হেনা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিয়ের খরচ নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রুহুল আমিন পাশে দাঁড়ানোয় মেয়ের বিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা রুহুল আমিনের এ উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদাহরণ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা আরও শক্তিশালী করবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন