বরিশাল অফিস
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ডিম ও রুটি পাওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ১০ নম্বর রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগ তল্লাশি করা হলে সেখানে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণের জন্য বরাদ্দ ডিম ও রুটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা আত্মসাৎ করা হলে শিশুদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি, যাতে সরকারি কর্মসূচির প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট থাকে।
✍️ মন্তব্য লিখুন