ডেস্ক রিপোর্ট
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের মধ্যে বণ্টন করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কার্যকরভাবে কাজে সম্পৃক্ত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় বৈঠকে ৩৬ জন নারী এমপির মধ্যে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী এমপিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজন হলে ডিও (আধা-সরকারি) পত্র প্রদানের সুযোগ পাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা না থাকায় তাঁদের কার্যক্রমের একটি সুস্পষ্ট ক্ষেত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রী নারী এমপিদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে বিরোধী দলগুলোর নেতারা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যের এলাকায় অন্য একজন এমপিকে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা, এর ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে।
এদিকে সরকারপক্ষ বলছে, এটি নির্বাচিত এমপিদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্যোগ নয়; বরং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নারী এমপিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা। সরকারের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও জবাবদিহি ও সমন্বয় আনা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তটির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী এমপিদের ভূমিকা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের পরবর্তী নীতিগত নির্দেশনার ওপর।
✍️ মন্তব্য লিখুন