পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে টানা প্রায় ৭০ ঘণ্টা অচলাবস্থার পর অবশেষে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং একাধিক পতাকা বৈঠকের পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
এর আগে গত ৫ জুন ভোরে বিএসএফ ওই ১০ জনকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে।
আটকে পড়াদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু ছিল। কয়েক দিন ধরে তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। এ সময় সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ না করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে মানবিক সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশ কোনো অবৈধ পুশইন মেনে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে থাকা ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে কয়েক দিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত মানবিক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন