প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম | আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র Zohran Mamdani ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে ঐতিহাসিক কোহিনূর হিরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজা Charles III-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম BBC এ তথ্য জানিয়েছে।
মামদানি বলেন, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে যদি ব্যক্তিগতভাবে রাজার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তাহলে তিনি কোহিনূর হিরা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করবেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা রাজা চার্লস ও রানি Camilla ওই স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মামদানি ও রাজার করমর্দনের ছবি প্রকাশ পেলেও, তাদের আলোচনায় কোহিনূর প্রসঙ্গ উঠেছিল কি না—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। Buckingham Palace কিংবা মেয়রের দপ্তর—কোনোটিই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক
Koh-i-Noor হিরাটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ভারত সরকার বহুবার এই হিরা ফেরত দাবি করেছে এবং এটিকে দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অনেকের কাছে এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক।
২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী David Cameron মন্তব্য করেছিলেন, কোহিনূর ফেরত দেওয়া “বাস্তবসম্মত নয়”।
ইতিহাসের পথচলা
পারস্য ভাষায় ‘আলোর পর্বত’ অর্থে নাম পাওয়া কোহিনূর হিরাটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের শাসকদের হাতে ঘুরেছে। Golconda অঞ্চলের খনি থেকে উত্তোলিত এই হিরার প্রাথমিক ওজন ছিল প্রায় ১৮৬ ক্যারেট।
মুঘল সাম্রাজ্য, ইরানি বিজেতা, আফগান শাসক এবং শিখ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকার পর ১৮৪৯ সালে Annexation of Punjab-এর মাধ্যমে ব্রিটিশদের হাতে আসে এটি। তখন শিখ শাসক Duleep Singh-এর কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে হিরাটি নেওয়া হয়।
বর্তমানে ১০৫ ক্যারেট ওজনের কোহিনূর যুক্তরাজ্যের রাজমুকুটের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত। এটি প্রয়াত Queen Elizabeth The Queen Mother-এর মুকুটে বসানো রয়েছে। তবে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে রানি ক্যামিলার অভিষেকে এটি ব্যবহার করা হয়নি।
কূটনৈতিক বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোহিনূর ফেরত দেওয়ার প্রশ্নটি শুধু ঐতিহাসিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ফলে এ ধরনের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও তা বাস্তবায়ন সহজ নয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন