২৩ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি আসন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তাদের প্রাপ্ত একটি আসন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে, কারণ জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কেন তৈরি হলো এই সংকট?
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোট পেয়েছে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট একটি আসন। সব দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থী জমা দিলেও মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা দেখা দেয়।
মূল সমস্যা হলো—তিনি সরকারি চাকরি ছেড়েছেন মাত্র কয়েক মাস আগে। অথচ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্য হতে হলে চাকরি ছাড়ার পর কমপক্ষে তিন বছর পেরোতে হবে।
আইন কী বলছে?
এ ক্ষেত্রে দুটি আইনি ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ—
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ১২(১)(চ) ধারা
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪
এই আইনের অধীনে:
> সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর ৩ বছর পূর্ণ না হলে কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।
সে হিসেবে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন।
বিকল্প প্রার্থী কেন বাতিল?
এনসিপি বিকল্প হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমকে মনোনয়ন দিলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে কাগজ জমা দেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন—সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মনোনয়ন গ্রহণের সুযোগ আইনে নেই।
তবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মনে করেন, আদালতের নজির অনুযায়ী এমন স্বল্প বিলম্ব কখনো কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?
এই পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা সামনে আসছে—
1. মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হলে
আসনটি শূন্য হতে পারে।
2. উপনির্বাচন হলে
সব দল অংশ নিতে পারবে, এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি জোটের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
3. আদালতে চ্যালেঞ্জ
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতে গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের মাধ্যমেই আসবে।
বাস্তব প্রভাব কী?
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য এটি শুধু একটি আসনের বিষয় নয়—সংসদে রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নও জড়িত। একটি আসন হারালে জোটের প্রভাব কমতে পারে, আর প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।
সংক্ষেপে
মূল বাধা: সরকারি চাকরি ছাড়ার পর ৩ বছর পূর্ণ হয়নি
বিকল্প প্রার্থী: দেরিতে মনোনয়ন → বাতিল
সম্ভাব্য ফল: আসন শূন্য / উপনির্বাচন / আদালতের হস্তক্ষেপ
এই পুরো পরিস্থিতি এখন নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
✍️ মন্তব্য লিখুন