প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে ১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
এই সারসংক্ষেপে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে—৩৫ বছরোর্ধ্ব প্রার্থী এবং যাদের নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রম করেছে—তাদের বর্তমান অবস্থা ও আইনি জটিলতা।
নিবন্ধন সনদ: চাকরির নিশ্চয়তা নয়
এনটিআরসিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—
১ম থেকে ১২তম ব্যাচের প্রার্থীদের কেবল প্রত্যয়নপত্র (সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছিল
এটি শুধুমাত্র শিক্ষক পদে আবেদন করার যোগ্যতা, চাকরির নিশ্চয়তা নয়
আগে নিয়োগ দিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি
সনদের মেয়াদ নিয়ে বারবার পরিবর্তন
নিয়ম অনুযায়ী সনদের মেয়াদ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে
২০০৬: কোনো মেয়াদ নির্ধারিত ছিল না
২০১২ (সংশোধন): ৫ বছর
২০১৩ (সংশোধন): মেয়াদ বাতিল
২০১৫ (সংশোধন): পুনরায় ৩ বছর নির্ধারণ
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন
২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের মাধ্যমে—
এনটিআরসিএকে সরাসরি নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়
১ম-১২তম ব্যাচের প্রার্থীরা
১ম থেকে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পেরেছিলেন
কিন্তু অনেকেই শূন্য পদ না থাকা বা মেধায় পিছিয়ে থাকার কারণে নিয়োগ পাননি
আইনি লড়াই ও আদালতের নির্দেশনা
নিয়োগের দাবিতে প্রার্থীরা—
মোট ১৬৬টি রিট মামলা করেন (মূল রিট: ১৩২৪/২০১৭)
বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ ৭টি নির্দেশনা দেয়
এই নির্দেশনার ভিত্তিতে
বয়সসীমা: ৩৫ বছর
জাতীয় মেধা তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করা হয়
তবে পরে
আপিল বিভাগ ২০২৪ সালে ওই নির্দেশনা বাতিল করে
বর্তমানে একাধিক আপিল ও রিভিউ মামলা চলমান রয়েছে
বর্তমান জটিলতা
এনটিআরসিএ জানিয়েছে
মোট ১৯টি মামলা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়
৩৫ বছর বয়সসীমা ও ৩ বছরের সনদের মেয়াদ বিষয়ে
আইন মন্ত্রণালয় ও সলিসিটরের মতামত প্রয়োজন
কী চায় এনটিআরসিএ?
সারসংক্ষেপে শেষে বলা হয়েছে—
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন—
বয়সসীমা (৩৫ বছর) থাকবে কি না
সনদের মেয়াদ (৩ বছর) সংশোধন হবে কি না
✍️ মন্তব্য লিখুন