অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রোববার (১ মার্চ) ইরানের সরকারি ও আধা-সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশ এক ‘মহান নেতাকে’ হারিয়েছে এবং তার মৃত্যুতে পুরো জাতি শোকাহত। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, খামেনির শাহাদত ‘শত্রুদের আতঙ্ক’ এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করার পর আইআরজিসি আরও জানায়, ‘যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, এই জাতি তাদের ছাড়বে না। দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি বদ্ধপরিকর।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যুর দাবি প্রথম সামনে আসে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে ইরান সরকারিভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক। রাষ্ট্রের সামরিক, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর তার ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নীতিনির্ধারণে তার নির্দেশনাই ছিল চূড়ান্ত।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হলে বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।
খামেনির মৃত্যু ও প্রতিশোধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন