এই বছর ভূমধ্যসাগর হয়ে ইটালির উপকূল বরাবর অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) জানায়, শুধুমাত্র সপ্তাহে প্রায় ৩,৮৭০ জন মানুষ ইতালিতে পৌঁছেছে এবং এই বছরের শুরু থেকে মোট প্রায় ১১,৫৪০ জন এসেছে — যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাদের মধ্যে প্রায় ১৮ % বাংলাদেশ থেকে আগত বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নাগরিকদের প্রথম গ্রহণ কেন্দ্রগুলো (যেমন লাম্পেদুসা) যাত্রীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি আছে। বাতাস ও সমুদ্রের খারাপ আবহাওয়া ফের যাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। 
ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি
এ বছরই ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপথে অন্তত ৬০৬ জন মানুষ মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে। অনেকের লাশ ইতালির উপকূলে ধরা পড়েছে, বিশেষত ক্রিটে নৌকাপতন ও অন্যান্য দুর্ঘটনার কারণে। 
ইটালির অভিবাসন নীতি ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা
ইটালির সরকার নতুন “ডেক্রেটো ফ্লুসি” (Decreto Flussi) হিসেবে প্রায় ৫ লক্ষ বিদেশী শ্রমিকের কাজের অনুমতি ২০২৬-২৮ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে, যাতে বিভিন্ন খাতে কর্মী নেওয়া যাবে — যদিও এই ভিসা প্রক্রিয়া মাঝে মাঝে ধীর ও জটিল থাকে। 
বাংলাদেশ-ইটালি ইমিগ্রেশন সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট
✳️ ইতালিতে বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক; আনুমানিক ১৫০,০০০-২,০০,০০০ জন বাংলাদেশি বাস করেন সেখানে, যা দেশটিতে অন্যতম বড় অভিবাসী গোষ্ঠী। 
✳️ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে কর্মী ভিসা-প্রক্রিয়া দ্রুত করতে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই দেশের কর্মকর্তারা পেন্ডিং অনুমোদিত আবেদনগুলো দ্রুত নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। 
✳️ বাংলাদেশের রাজধানীতে আগে বাংলাদেশিরা ইটালির ভিসা বিষয়ে বিক্ষোভও করেছিলেন, যেখানে তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভিসা/পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেছিল। 
✳️ এছাড়াও বাংলাদেশে ভুয়া ইটালি ভিসা (ফেক ভিসা) নিয়ে একটি প্রতারণা মামলাও রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে অনেক লোকের সঞ্চয় নষ্ট হয়ে গেছে এবং প্রতারকরা গ্রেফতার হয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন