স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের নানা কুসংস্কার ও বিশ্বাসও আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘রকি’ মূর্তিকে ঘিরে এবার এমনই এক কুসংস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় এসেছে ব্রাজিলের সমর্থকেরা। তাদের বিশ্বাস, রকি মূর্তির গায়ে কোনো দলের জার্সি পরানো হলে সেই দল শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুখ দেখে। তাই ব্রাজিলের সমর্থকেরা এবার নিজেরাই মূর্তিটির পাহারায় নেমেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার আর্ট মিউজিয়ামের সিঁড়ির নিচে স্থাপিত কিংবদন্তি বক্সার চরিত্র রকি বালবোয়ার ব্রোঞ্জের মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই শহরটির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। তবে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্কৃতিতে এটি ‘রকি কার্স’ বা রকির অভিশাপ নামেও পরিচিত। বহুবার দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা মূর্তির গায়ে নিজেদের দলের জার্সি পরিয়ে দেওয়ার পর সেই দল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গেছে।
চলতি বিশ্বকাপেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে দাবি করছেন সমর্থকেরা। ইকুয়েডরের সমর্থকেরা মূর্তির গায়ে নিজেদের জার্সি পরানোর পর দলটি আইভরি কোস্টের কাছে হেরে যায়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ে—কোনো অবস্থাতেই যেন রকি মূর্তির গায়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো না হয়।
ব্রাজিলের প্রধান সমর্থকগোষ্ঠী ‘মুভিমেন্তো ভার্দে আমারেলো’ ফিলাডেলফিয়ায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়। তারা মূর্তির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পাহারায় রাখে, যাতে কেউ আবেগের বশে মূর্তিটিকে ব্রাজিলের রঙে সাজিয়ে না ফেলে। সমর্থকদের হাতে ছিল সতর্কতামূলক প্ল্যাকার্ডও।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর ব্রাজিল সমর্থকেরা কোনো ধরনের ‘অপয়া’ ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাদের বিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই রকির মূর্তিকে সম্মান জানিয়ে দূর থেকেই ছবি তুলেছেন সমর্থকেরা, কিন্তু কেউই জার্সি পরানোর সাহস দেখাননি।
কুসংস্কার সত্য কি না, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবুও বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ফিলাডেলফিয়ার রকি মূর্তি এখন নতুন করে আলোচনায়। আর ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে বার্তাটি স্পষ্ট—দলের জয় চাইলে রকিকে তার নিজের বেশেই থাকতে দিতে হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন