চট্টগ্রামে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধারের পর তা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাঁকে থানা থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
কী ঘটেছিল?
সিএমপির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে থাকা পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেনের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে আইন অনুযায়ী মামলা না করে ওই ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইয়াবাগুলো নিজেদের হেফাজতে নিলেও কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি।
তদন্তে যা উঠে এসেছে
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন পুরো ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ না করা, প্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর নির্দেশেই ইয়াবা বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ওসির বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে আফতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি ইয়াবা আত্মসাতের বিষয়ে কিছু জানেন না এবং ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন।
গুরুত্ব
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের পর তা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ভিত্তিতে ওসিকে প্রত্যাহার করা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
✍️ মন্তব্য লিখুন