নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে একটি গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে টাঙানো হয়েছে বড় বড় সাইনবোর্ড। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে— “হয় মাদক ছাড়ো, নয়তো সকুচাইল গ্রাম ছাড়ো।” এই বার্তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন গ্রামের সচেতন নাগরিক, তরুণ সমাজ ও অভিভাবকেরা। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডের মাধ্যমে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের প্রতি কঠোর সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন গ্রামবাসী।
গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদকের কারণে পরিবারে অশান্তি, অপরাধ বৃদ্ধি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাই একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাইনবোর্ডগুলো সেই অবস্থানেরই প্রতীক।
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা ব্যানার, সাইনবোর্ড ও গণসচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। অতীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকমুক্ত গ্রাম গঠনের লক্ষ্যে অনুরূপ প্রচারণা চালানোর নজির রয়েছে।
তবে আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কোনো ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সামাজিকভাবে চিহ্নিত বা হেয় করার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রম যেন সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কঠোর সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সকুচাইল গ্রাম মাদকমুক্ত একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত হবে। গ্রামের তরুণদেরও এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদকবিরোধী এই বার্তা ইতোমধ্যে আশপাশের এলাকাতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সামাজিক প্রতিরোধের সাহসী উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি বাস্তবায়নে আইনসম্মত ও মানবিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন