ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের যে পরিকল্পনা করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্ধারিত ডেমো প্রদর্শনের সভা স্থগিত হওয়ায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এআই-ভিত্তিক ভাইভা নেওয়ার ধারণাটি আধুনিক ও সময়োপযোগী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, অবকাঠামো এবং পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় আপাতত এই পদ্ধতি থেকে সরে আসার সম্ভাবনাই বেশি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে ভাইভা গ্রহণের বিষয়ে একটি সভা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে আপাতত এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল রাতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত (এমসিকিউ) ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩১ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন ৫৩ হাজারের বেশি প্রার্থী, আর পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৪৮ হাজারেরও বেশি।
উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিল চার ধাপে এই নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রার্থীরা।
কী বোঝা যাচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-ভিত্তিক ভাইভা ব্যবস্থা চালু হলে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বাড়তে পারত। তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন। তাৎক্ষণিকভাবে এটি চালু করা কঠিন হওয়ায় মন্ত্রণালয় আপাতত প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভাইভা নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে।
এখন সবার নজর শিক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে—এআই নির্ভর আধুনিক পদ্ধতি, নাকি প্রচলিত বোর্ডভিত্তিক ভাইভা—কোন পথে এগোবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া।
✍️ মন্তব্য লিখুন