ঢাকা, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আবারও সরব হয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় ১৪ হাজার প্রার্থী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, “প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর আওতায় আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রয়োজনীয় সব যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও নিয়োগপত্র প্রদান বিলম্বিত হওয়ায় আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
তারা আরও জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
প্রার্থীরা তাদের স্মারকলিপিতে দুটি মূল দাবি তুলে ধরেছেন—
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীর অনতিবিলম্বে নিয়োগপত্র প্রদান
দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগদান ও পদায়ন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি
স্মারকলিপিতে ডিজির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “মানবিক ও ন্যায্য দিক বিবেচনা করে আমাদের দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে আমরা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাব।”
এর আগে, রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। পরে দুপুরে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল জানায়, যোগদান প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা জরুরি। আমরা প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করছি, তবে নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আন্দোলন আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রার্থীরা। শিক্ষাখাতে গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন