নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪১ PM
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারি দল ও তাদের জোটভুক্ত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এসাইনমেন্ট অফিসার-২ এস এম পারভেজ স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্র থেকে জানা গেছে, দেশের ২১৫টি সংসদীয় এলাকায় শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকা মূলত সরকারপক্ষের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করা আসন।
কী কী ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে
বরাদ্দপত্র অনুযায়ী প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য দেওয়া হয়েছে—
৭০০টি সিনথেটিক শাড়ি
১০০টি থ্রি-পিস
৫০টি হাজী রুমাল
এসব ত্রাণসামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে সরবরাহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে।
বাদ পড়েছে অন্য জোট ও স্বতন্ত্র এমপিরা
দেশের মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২১৫টিতে। বাকি আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরোধী জোট ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করা এলাকা।
বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের এলাকাগুলো এই বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এনসিপি নেতার সমালোচনা
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুড়িগ্রাম–২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন,
“আমরা কি তাহলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে যাচ্ছি? প্রধানমন্ত্রী কি শুধু ৫০ শতাংশ মানুষের? আমাদের এলাকার মানুষ কি ট্যাক্স-ভ্যাট দেয় না? জাতি এই বৈষম্য মনে রাখবে।”
প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর এক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, ত্রাণসামগ্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে আসার কথা নয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনই এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে সংসদ সদস্যদের পরামর্শক্রমে তা বিতরণ করবেন। প্রয়োজনে সংগ্রহে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা নিজ দায়িত্বে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করতে পারবেন।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এই বরাদ্দে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি রয়েছে।
তবে ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন