নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম আজ রোববার বিকেল থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
বিইআরসির নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে ১২ কেজির পাশাপাশি অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে বাড়বে। গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজারে আগে থেকেই বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
নতুন দাম ঘোষণার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ নিয়ে সরকার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি বা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত শনিবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় এলপিজি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২৩টি দলের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আমদানি ও সরবরাহ নিয়ে মতভেদ
এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আমদানিকারকদের একাংশ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, কিছু এলপিজি অপারেটর অভিযোগ করেছে, পর্যাপ্ত আমদানি থাকার পরও বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
এলপিজির নতুন দাম ঘোষণার আগে গতকাল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকও হয়। তবে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
- নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন