মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। বনরক্ষীদের দ্রুত তৎপরতা ও চার রাউন্ড ফাঁকা গুলির মুখে তারা পিছু হটে গভীর সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পর্যটকবাহী দুটি জাহাজে থাকা ৯৭ জন পর্যটক নিরাপদে রয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা খালের সাগর মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় কটকা এলাকায় ‘দি ওয়েভ-২’ ও ‘আরালসী’ নামের দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল। জাহাজ দুটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৯৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত ফিশিং ট্রলারে একদল দুর্বৃত্ত সন্দেহজনকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজগুলোর দিকে এগিয়ে আসে।
ট্রলারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি স্থানীয় জেলে ও বনরক্ষীদের জানানো হয়। খবর পেয়ে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষীরা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ট্রলার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বনরক্ষীরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
গুলির শব্দে দুর্বৃত্তরা দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে গভীর সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। এতে পর্যটকবাহী জাহাজ দুটিতে সম্ভাব্য ডাকাতির ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়।
‘দি ওয়েভ-২’ জাহাজের মাস্টার মো. শামিম আলম জানান, দুর্বৃত্তদের গতিবিধি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে জাহাজে থাকা পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে দস্যুদের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে পর্যটকদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পর্যটনকেন্দ্র ও বনাঞ্চলের নিরাপত্তায় বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। কটকা ও আশপাশের এলাকায় বন বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের রাতের টহল আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনার পর কটকা ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বন বিভাগ বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন