ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নরসিংদীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে। এরই মধ্যে নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত মশকনিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৩০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ২৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭০৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
এদিকে নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এলাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যায়। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দ্রুত মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো, লার্ভা ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নরসিংদী জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলো—বিশেষ করে ভেলানগর ও ব্রাহ্মণপাড়ায়—মশার ওষুধ প্রয়োগ এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নরসিংদীর হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার খবর পাওয়া যায়। তখন জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না; একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের পাশাপাশি মশকনিধন কার্যক্রমও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার এই সময়ে ভেলানগরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত মশকনিধন ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁরা দ্রুত কার্যকর ও নিয়মিত মশকনিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন