যশোর প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে সরকারি উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানীর তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের দীর্ঘদিনের ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সম্মানীর জন্য তৈরি করা তালিকায় মসজিদের প্রকৃত ইমামের পরিবর্তে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও স্থানীয় জামায়াত নেতা তবিবুর রহমানকে ইমাম এবং গড়ভাঙ্গা ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে খাদেম হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রকৃত ইমাম ও খাদেম সরকারি সম্মানী থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসলাম সরদার বলেন, তালিকা তৈরির বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়নি। স্থানীয় জামায়াত নেতারা নিজেদের মতো করে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের তালিকা জমা দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি চালু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে একজন ইমামকে মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমকে ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
কেশবপুরে প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদের তালিকা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী জানিয়েছেন, ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ও খাদেমের বিষয়ে পাওয়া অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অভিযোগের পর গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদটিকেই সম্মানীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের পরই নেওয়া হবে।
সরকারি অর্থে পরিচালিত এই সম্মানী কর্মসূচির তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, প্রকৃত দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের পরিবর্তে অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হলে সরকারি সহায়তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধও তৈরি হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন