নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তবে রাষ্ট্রবিরোধী, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করলেও শুধু সে কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, অপপ্রচার ও অসত্য তথ্যের বিস্তার ঠেকানো জরুরি। এ বিষয়ে সরকার ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। প্রস্তাবিত আইনে নারী ও শিশুর সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাইবার বুলিং, মানহানিকর প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো আইনের আওতায় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
আইনটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপক জনপরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানান ইয়াসের খান চৌধুরী। পাশাপাশি আইনটির অপব্যবহার ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষামূলক ভিডিও ও রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কনটেন্ট স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারের পাশাপাশি তথ্য অফিস ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সভা শেষে ময়মনসিংহ জেলার সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, আন্তদপ্তর সমন্বয় জোরদার এবং জনগণের কাছে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সেখানে আলোচনা হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন