নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্বও ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তিনি।
বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দল এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ধাপ রয়েছে।
সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা
সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব করা হয়।
দলের কঠিন রাজনৈতিক সময়ে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময়ে দল পরিচালনায় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের মহাসচিব পদে কে আসছেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন—এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সেদিকেই নজর রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪
✍️ মন্তব্য লিখুন