খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয়–২৪ ছাত্রীহলের বাথরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের এক ক্যান্টিন কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে বিপুলসংখ্যক গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, গত প্রায় ছয় মাসে তিনি প্রায় ৯০০টি ভিডিও ধারণ করেছেন এবং সেগুলোর কিছু বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয়–২৪ হলের একটি নারী ওয়াশরুমে সন্দেহজনকভাবে রাখা একটি মোবাইল ফোন দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একাধিক গোপন ভিডিও উদ্ধার হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা চললেও প্রশাসনের নজরে আসেনি। যৌন হয়রানিসহ নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোতে প্রশাসনের উদাসীনতারও অভিযোগ তুলেছেন তারা।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা দোষীদের দ্রুত বিচার, নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন