ডেস্ক নিউজ
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ নামকরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বস্তি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের সদস্য হিসেবে তিনি এবারের বাজেটকে একটি বিশেষ নাম দিতে চান, আর সেটি হলো ‘জীবনবান্ধব বাজেট’। তাঁর মতে, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না থেকে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। জনগণও সংসদে ভবিষ্যৎমুখী আলোচনা দেখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে অতীতের মতো বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। তিনি এটিকে সরকারের জনবান্ধব নীতির একটি ইতিবাচক ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ওপর কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের কল্যাণমুখী করে তোলা এবং এমন একটি উন্নয়নধারা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন