ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের দাফন কয়েক ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মৃত ব্যক্তির চার স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে জমি ও উত্তরাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তাঁর মরদেহ দাফন নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি গ্রামে বসবাসকারী বৃদ্ধ জলিল পন্ডিত বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার ভোরে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি নির্দিষ্ট একটি স্থানে তাঁকে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে তাঁর মৃত্যুর পর সেই জায়গার মালিকানা ও সম্পত্তির অংশীদারত্ব নিয়ে সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় তাঁর এক কন্যার নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি লিখে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে অন্য সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। মৃত্যুর পর তাঁকে ওই জমিতে দাফন করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে আসে। একপর্যায়ে মরদেহ দাফনের পরিবর্তে বাড়ির উঠানে রাখা অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের মধ্যস্থতায় বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানের এক পাশে মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত হয় এবং বিকেলে জানাজা শেষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির একাধিক সংসার থেকে মোট ১০ সন্তান রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকেই দাফন বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সামাজিক প্রভাব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন