ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে থাকা এক আইন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের সময় তাঁর ওপর মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের। নিহতের মা খাদিজা আক্তার নিপা অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাবার মৃত্যু হওয়ার পর প্রান্ত পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি চিনিকলে চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি ভিন্ন। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাদকসহ প্রান্তকে আটক করা হয়েছিল। পরে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতার কথা জানান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং প্রাথমিকভাবে উচ্চ রক্তচাপজনিত স্ট্রোক বা শারীরিক জটিলতার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রান্তের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক আইনে দুটি মামলা ছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ নতুন করে মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন