নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদপ্রত্যাশীরা এবার রাজধানীর মিরপুর-২ এ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে অধিদপ্তরের সামনে জড়ো হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এ সময় তারা ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। নিয়োগপ্রত্যাশীরা জানান, লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত বা স্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে দুই দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
আন্দোলনকারী মাহবুব হোসেন বলেন, “প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এ আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া—মেডিকেল পরীক্ষা ও কাগজপত্র জমা—সম্পন্ন করেছি। তবুও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন আর আশ্বাসে নয়, আমরা লিখিত সিদ্ধান্ত চাই।”
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। পরে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে দ্রুত যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিনিধিদল জানায়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়ে এবং পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি প্রার্থী।
২১ জানুয়ারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে চলমান এই আন্দোলন এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন