নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের বৈঠকে এসব বিল কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়াতেই এগুলো পাস করা হয় এবং এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়নি।
সংসদে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের পাঁচটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এগুলো হলো—নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬। সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা জোরদারে এসব আইনের গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করলে সেটিও পাস হয়।
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিল উত্থাপন করেন। এগুলো হলো—‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। এসব বিলও কোনো বিরোধিতা ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটি জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল এবং ১৬টি নতুন করে শক্তিশালী আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়।
আজকের ১০টি বিল পাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের আইনগত কাঠামো স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন