এম জি বাবর
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সরকারি সম্পত্তিতে একদল ভূসন্ত্রাসী চক্র দখলের মহোৎসবে নেমেছে। এ চক্রটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে অবৈধ উপার্জন করছে।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী মধ্যম পোলের গোড়ায় প্রশাসন খাল দখল উচ্ছেদ অভিযান চালায় এসময় পোলের গোড়ায় একটি শুটকি দোকান সহ খালের পশ্চিম পাড়ের অনেক দোকান পাট ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু শুটকি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন কয়েকদিন পর আবার রাতের আধারে পুনরায় দোকান ঘর উঠায়। অপরদিকে করিমপুর সিঙ্গার রোডের বিপরীতে একদল ভূগ্রাসী গণপূর্ত বিভাগের সম্পত্তিতে প্রকাশ্যে বিশাল মার্কেট নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিচ্ছে। অন্যদিকে আরেকটি চক্র চৌরাস্তায় জেলা পরিষদ মার্কেটের পিছনে ও চৌরাস্তার উত্তরে কালা পোলের দক্ষিণে ঢাকা-নোয়াখালী ফোরলেন সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে উচ্ছেদ হওয়া স্থানে প্রকাশ্যে দোকানপাট তৈরী করে ভাড়া দিয়ে অগ্রিম ও মাসিক হারে ভাড়া ধার্য্য করে অবৈধ উপার্জন করেছে।
চৌমুহনী মধ্যম পোলের গোড়ার খাল দখলকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, খালের উপর জায়গাটি আমি চৌমুহনী ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিন্নাহ মিয়া থেকে দখলীয় স্বত্ত্ব খরিদ সূত্রে মালিক হই। কিন্তু বেগমগঞ্জ উপজেলা বিদায়ী নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানকে একসনা বন্দোবস্তের কাগজপত্র দেখানের পরেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার দোকানটি ভেঙ্গে ফেলে। তিনি বদলী হওয়ার পর নতুন নিবার্হী অফিসার মোঃ কায়েসুর রহমান সহ সকলকে অবগত করাইয়া আমি পুনরায় উক্ত জায়গায় দোকান ঘর নির্মান করি।
গণর্পূ্ত বিভাগের সাইনবোর্ডের জায়গায় মার্কেট নির্মাণকারী আবুল কাশেম কন্ট্রাক্টর বলেন, আমি বন্দোবস্ত আনিয়া আমার সম্পত্তিতে আমি দোকান পাট নির্মাণ করেছি। বাকী যে সম্পত্তিতে কে বা কাহারা বিশাল মার্কেট নির্মান করেছে তা আমি জানিনা। কারন যতটুকু জায়গা একসনা বন্দোবস্ত এনেছি অনেকদিন পর ততটুকু পরিমাণ সম্পত্তি আমি ভোগ দখলে নিয়েছি। সেমতে সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করেছি।
বেগমগঞ্জ সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) সাদাত হোসেন জানান, আমার জানা মতে করিমপুর ও চৌমুহনী মধ্যম পোলের গোড়ার দোকান ঘরগুলি বন্দোবস্তের আওতার মধ্যে রয়েছে। তারা সরকারের রাজস্ব দিয়ে আসছে তারপরও যদি কাগজপত্র ত্রুটি থাকে তাদেরকে সংশোধন করে আসতে হবে। অন্যথায় পুনরায় ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কায়েসুর রহমান বলেন, সরকারী সম্পত্তিতে কেউ বন্দোবস্ত নিলেও তা আবার সরকারের প্রয়োজনে ভেঙ্গে ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে ভেঙ্গে ফেলা সরকারী সম্পত্তিতে পুনরায় ঘর নির্মাণ হলো কিভাবে আমার এসিল্যান্ডকে তথ্য দেওয়ার জন্য বলেছি। তথ্য পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

✍️ মন্তব্য লিখুন