রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। বাকি নিহতরা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ এবং ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন।
রাজবাড়ীর নিহতরা
রাজবাড়ী পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— রেহেনা আক্তার (৬১), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহা আক্তার (১১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), তাজবিদ (৭), লিমা আক্তার (২৬), সাবিত হাসান (৮), জোসনা (৩৫), মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানুর (১১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), আব্দুর রহমান (৬), উজ্জল শেখ (৪০), আশরাফুল, জাহাঙ্গীর এবং বাসচালক আরমান খান (৩১)।
অন্যান্য জেলার নিহতরা
রাজবাড়ীর বাইরে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), ইসরাফিল (৩), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩); ঝিনাইদহের আরমান (৭ মাস); গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮); দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) এবং ঢাকার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ছয়জনকে উদ্ধারে নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
✍️ মন্তব্য লিখুন