ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২৬: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের পরপরই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংরক্ষিত আসন বণ্টনের সূত্র
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো বিতরণের জন্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতটি সাধারণ আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এই সূত্র অনুযায়ী সম্ভাব্য বণ্টন নিম্নরূপ—
দল/প্রার্থী সাধারণ আসন সম্ভাব্য সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপি ২০৯ ৩৫
জামায়াত ৬৮ ১১
এনসিপি ৬ ১
স্বতন্ত্র ও ছোট দল — ৩
নির্বাচন কমিশনার Abdur Rahmanel Masud জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়া
Bangladesh Nationalist Party সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয় থাকতে পারে। দলটির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir জানিয়েছেন, ঈদের আগে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রধান বিরোধী দল Bangladesh Jamaat-e-Islami ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলটির মহিলা বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হবে।
এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী
National Citizen Party সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে। আলোচনায় রয়েছেন—
Monira Sharmin — যুগ্ম আহ্বায়ক, নওগাঁ-৫ থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন
Mahmuda Alam Mitu — দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, ঝালকাঠি-১ থেকে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল
উল্লেখ্য, দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে উভয় প্রার্থী শেষ পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।
বিশ্লেষণ
সংরক্ষিত নারী আসনের এই বণ্টন দলগুলোর সংসদীয় শক্তির অনুপাতে নির্ধারিত। বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পাচ্ছে, যা দলটির প্রভাব ও নেতৃত্বের নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। জামায়াত ও এনসিপি তাদের প্রভাব অনুযায়ী আসন পাবে, আর বাকি ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মূলত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশন ও দলগুলো এখন মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচন প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে ব্যস্ত। ঈদুল ফিতরের পরেই ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন