নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলের বিক্ষোভে কড়া বক্তব্য
ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই, আর তারা চায় ভোট ডাকাতি করতে।” সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, জনগণের সামনে যারা “ভোট ডাকাতি” করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকা উন্মোচন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশে ভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় “ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বিরোধী শক্তি হিসেবে তারা রাজপথে থেকে প্রতিটি অনিয়মের “কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব” নেবে।
তিনি আরও বলেন, তাদের দল নির্বাচনবিরোধী নয়—বরং সংস্কারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন চেয়েছে। “সংস্কারের সময় আমাদের নির্বাচনবিরোধী প্রমাণের চেষ্টা হয়েছিল। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, আমরা নির্বাচন চাই এবং গণতন্ত্র চাই,”—বলেন তিনি।
সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি
সমাবেশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে এনসিপি নেতা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।” একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে নারীসহ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দাবি
সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। সমাবেশ থেকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন