কুমিল্লা প্রতিনিধি
অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালকদের হত্যার অভিযোগে কুমিল্লায় আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মানিককে জিজ্ঞাসাবাদে অটোরিকশাচালক মেহেদী ও আরমান হোসেন হত্যার রহস্যের সূত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে আরেক অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আজ মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আতিয়াবাড়ী এলাকায় একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি অটোরিকশাচালক মেহেদীর (১৮) বলে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমের নাম আসে। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদীকে হত্যার পর তাঁর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়। মানিক ও সেলিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে মানিকের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, ফোনটি গত ২৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আরমান হোসেনের। এরপর আরমানের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্তে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, আরমানের অটোরিকশার কাটা বডি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, অটোরিকশাটি মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। পরে তাঁরাও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশের ভাষ্য, আরমানকে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে মানিক ও সেলিম জানিয়েছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি আরমানের কি না, তা শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাইমন (১৭) নামের এক চালককে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মানিকের বিরুদ্ধে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের হত্যার একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন