ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
নির্বাচনের আগে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গ্রামের বাসিন্দারা। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের আগেই প্রার্থী বাছাইয়ে গ্রামবাসীর ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভোটাভুটিতে গ্রামের ভোটারদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে তাঁরা ভোট দেন। আয়োজকদের উদ্দেশ্য, গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা এবং একই পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা কমানো।
আয়োজকেরা জানান, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকা একাধিক ব্যক্তির মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় গ্রামবাসীর মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে যিনি বেশি ভোট পাবেন, তাঁকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অন্যদেরও ঐকমত্যে আনার চেষ্টা করা হবে।
ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। আয়োজকদের দাবি, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের বাইরে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব।
তবে গ্রামবাসীর এ ভোটাভুটি কোনো সরকারি বা নির্বাচন কমিশন পরিচালিত নির্বাচন নয়। এটি স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের আইন, বিধি ও মনোনয়নপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একই এলাকা থেকে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে আগেই একজনকে বেছে নিয়ে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটাভুটির এমন নজির রয়েছে। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি গ্রামের বাসিন্দারা ইউপি সদস্য পদে নিজেদের প্রার্থী ঠিক করতে ভোট দিয়েছিলেন। সেখানে ৩২৮ ভোটারের মধ্যে ২৯১ জন ভোট দিয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটিও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন