নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। তবে পরীক্ষা শুরুর আগেই বড় ধরনের এক বাস্তবতা সামনে এসেছে—দুই বছর আগে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত সাড়ে চার লাখ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে গেছে বা পরীক্ষার বাইরে রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক চিত্র
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ছিল ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ লাখ ৫ হাজারের বেশি। প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এক লাখ ৬ হাজারের কিছু বেশি।
মোট পরীক্ষার্থী ও আয়োজন
নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৮ লাখের বেশি। এর মধ্যে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী চার লাখের বেশি, যাদের একটি বড় অংশ আংশিক বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নকল ও অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা থাকবে।
ঝরে পড়ার কারণ কী?
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
বাল্যবিয়ে
বিদেশে শ্রমবাজারে চলে যাওয়া
দারিদ্র্য ও পারিবারিক চাপ
পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া বা পুনরায় শ্রেণিতে থেকে যাওয়া
এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বলেন যে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে এবং চূড়ান্তভাবে কারণ নির্ধারণে সময় লাগবে।
তিনি জানান, আগের বছরগুলোর অনুসন্ধানে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ছেলেদের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
আগের বছরের তুলনা
গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৯ হাজার ২৩৫ জন। ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারে।
নীতিনির্ধারণে নতুন প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরেই এত শিক্ষার্থী হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা মনে করছেন, বাল্যবিয়ে রোধ, দরিদ্র পরিবারের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার জন্য প্রণোদনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে এই পরিসংখ্যান শিক্ষা খাতের সামনে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে—কেবল পরীক্ষা আয়োজন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ধরে রাখাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন