ডেস্ক রিপোর্ট | ১৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেড় বছরের শীতলতার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে দিল্লি ‘অনির্বাচিত’ হিসেবে দেখেছিল। ফলে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুত অভিনন্দন জানান এবং ফোনালাপও করেন—যা সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক মাসে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক নির্ধারণ করবে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
১. ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয় কি না
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় পর্যটক উৎসগুলোর একটি।
কিন্তু ২০২৪ সালের পর ভিসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। গত দেড় বছরে সীমিত মেডিকেল ও জরুরি ভিসা ছাড়া তেমন কিছু দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ভারতীয় কূটনীতিকরা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে সেটি হবে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রমাণ।
২. তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর
নতুন সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।
তারেক রহমান যদি প্রথম সফরে দিল্লি যান, তাহলে তা হবে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের শক্ত বার্তা।
অন্যদিকে, তিনি যদি সৌদি আরব, চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক অন্য দেশগুলো বেছে নেন, তাহলে ভিন্ন কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।
এছাড়া, নরেন্দ্র মোদী-কে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেটি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
৩. ক্রিকেট কূটনীতি ও ভারতীয় দলের সফর
ক্রিকেট দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’।
২০২৫ সালে নির্ধারিত ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে।
২০২৬ সালে সেই সফর পুনর্নির্ধারিত হয় কি না, এবং ভারত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কি না—তা সম্পর্কের উন্নতি বোঝার একটি বড় সূচক হবে।
৪. কানেক্টিভিটি প্রকল্পের অগ্রগতি
দুই দেশের মধ্যে ট্রেন ও বাস যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।
মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস চালু না থাকায় মানুষে-মানুষে যোগাযোগ কমে গেছে।
এছাড়া আগরতলা–আখাউড়া রেল সংযোগ প্রকল্প প্রায় শেষ হলেও চালু হয়নি।
এই প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু বা সম্পন্ন হলে তা অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।
৫. গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর।
এই চুক্তির নবায়ন দুই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি দ্রুত রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়, তাহলে বোঝা যাবে যে দুই দেশ জটিল ইস্যুতেও সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহী।
অন্যথায়, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন