অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে মারা গেছেন Bangladesh University of Engineering and Technology (বুয়েট)-এর এক শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুর পর তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ আসমাত নিবিড় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিল ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
নিবিড়ের মৃত্যুর পর ২০২৩ সালের ৫ মার্চ তার দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, নিয়মিত যে ধরনের খাবার তিনি গ্রহণ করেন, তাতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাস থাকলে বেশিরভাগ সময় বাটার বান দিয়ে নাশতা করতেন, যা তার মতে কার্সিনোজেনিক উপাদানযুক্ত হতে পারে। দুপুর ও রাতে ভাতের সঙ্গে মুরগি খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বিকেলে ডিপ-ফ্রাইড খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কথাও লিখেছিলেন। এসব খাবারে ট্রান্স ফ্যাট থাকার কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নিবিড় পোস্টে আরও লেখেন, দৈনিক ক্যালোরির একটি অংশ ট্রান্স ফ্যাট থেকে এলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। সেই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে কখনও কখনও মনে মনে ভাবেন—২০ বছর পর নিজেকে হয়তো কবরে দেখবেন।
তিন বছর পর তার ক্যান্সারে মৃত্যুর পর ওই পোস্টটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার লেখাকে ‘অদ্ভুতভাবে মিলে যাওয়া’ ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জানা গেছে, নিবিড়ের বাড়ি Chuadanga জেলায়। তিনি চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুয়েটে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও অনুবাদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে Metastatic Adenocarcinoma নামের জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য গত কয়েক মাসে দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ আর্থিক সহায়তা ও দোয়া করেছেন। তবে সব প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিবিড়ের মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তাকে ক্ষমা করা হয় এবং পরকালে উত্তম প্রতিদান দান করা হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন