নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্বামীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশের পোশাকের আদলে তৈরি চারটি জ্যাকেট, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনির একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে ওই বাসায় ঢুকে নারীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ওই বাসার বাসিন্দা আতাউর রহমান (৬২) পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সুধারাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরীকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি পোশাক ও ওয়াকিটকি হাতে পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ওই নারীর সাবেক স্বামী শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলামও রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে শুভ চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধের পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
পুলিশ জানায়, সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে কয়েকজন প্রথমে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে শুভ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন সেখানে ঢোকেন। একপর্যায়ে নারীকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের আটক করে।
আটক সাতজন হলেন—শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), রুবেল হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর আলম (২৮), আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), নাদির (২৯) ও শরীফ মিয়া (৫৫)।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনকে আটক করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে সিআইডি পরিচয় ব্যবহার করে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন