
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের অন্যতম প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব আল মুজাহিদী মারা গেছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও স্ট্রোক-পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল।
আল মুজাহিদী ছিলেন ষাটের দশকের উল্লেখযোগ্য কবিদের একজন। কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি এবং মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা। দীর্ঘ সময় তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন।
একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাহিত্যকে তিনি সমাজ ও মানবতার পক্ষে শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে আল মুজাহিদী শুধু একজন কবি নন, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম। তাঁর সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন