ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৬: দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, “আমি শিক্ষামন্ত্রী, আমি তো আপনাদের জন্য সরকার”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি উপাচার্যদের (ভিসি) সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত University Grants Commission (ইউজিসি) ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘World Intellectual Property Day 2026’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ছে, কিন্তু মান কতটা বাড়ছে?
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭টি এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সংখ্যার পাশাপাশি গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এগোচ্ছে, নাকি শুধুমাত্র পদ ও কাঠামো তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে?
তার ভাষায়, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে উন্নত হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
ভিসিদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চাইলেন মন্ত্রী
উচ্চশিক্ষার কাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে উপাচার্যদের কাছ থেকেই কার্যকর প্রস্তাবনা আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি চাই, আপনারাই বলুন—কীভাবে আমাদের ইন্টিগ্রেটেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উন্নত করা যায়। সরকার সে অনুযায়ী সহযোগিতা করবে।”
সহযোগিতার আশ্বাস
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি উন্নয়নমুখী উদ্যোগ নেয়, তবে সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি উন্নয়ন চান, আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব।”
প্রেক্ষাপট
বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, গবেষণা উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এই বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
✍️ মন্তব্য লিখুন