প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৫ PM
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটি ঈদযাত্রা উপলক্ষে ভাড়া বৃদ্ধি ও যাত্রী হয়রানির চিত্র তুলে ধরে। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাস ও মিনিবাসে ব্যাপক হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিটিবাসেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রী এবং সিটি সার্ভিসে প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করবেন। ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন রুটে ভাড়ার চিত্রে দেখা গেছে—
ঢাকা–পাবনা: ৫৫০–৬০০ টাকার ভাড়া বেড়ে প্রায় ১২০০ টাকা
ঢাকা–নাটোর: ৫৫০–৫৮০ টাকার ভাড়া বেড়ে প্রায় ১২০০ টাকা
ঢাকা–রংপুর: ৫০০ টাকার ভাড়া বেড়ে ১৫০০ টাকা
ঢাকা–ময়মনসিংহ: ২৫০ টাকার লোকাল ভাড়া বেড়ে ৬০০ টাকা
এছাড়া যাত্রীদের নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। যেমন, চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের সাতকানিয়া বা বান্দরবানের টিকিট দেওয়া, কিংবা বগুড়াগামী যাত্রীদের রংপুর বা নওগাঁর টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, আসনসংখ্যা ও জ্বালানিভেদে ভাড়ার পার্থক্য থাকলেও অনেক পরিবহন একই হারে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এমনকি চালক ও সহকারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে পরিশোধ করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমিতির হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার যাত্রায় প্রতি যাত্রীকে গড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে মোট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে সিটিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া থেকে আরও প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হতে পারে। সব মিলিয়ে শুধু বাস-মিনিবাস খাতেই অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেন চালু, নগদ লেনদেন কমানো, সড়কে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে প্রতি ঈদেই যাত্রীদের এ ধরনের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন