প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ PM
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল বা ‘হাই ফিডেলিটি’ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে ‘রোরিং লায়ন’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরেই খামেনির অবস্থান ও চলাচলের ওপর নজরদারি জোরদার ছিল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের একটি সরকারি কম্পাউন্ডে শীর্ষ নিরাপত্তা বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। ওই কম্পাউন্ডে ইরানের প্রেসিডেন্সি অফিস, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দপ্তর অবস্থিত।
সূত্রের বরাতে টাইমস জানায়, মূলত রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সকালের বৈঠকে ইরানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতির সুযোগ নিতে সময় পরিবর্তন করা হয়। ইসরায়েলি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে যুদ্ধবিমান ঘাঁটি ত্যাগ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র কম্পাউন্ডে আঘাত হানে।
হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বার্তায় বলা হয়, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে কৌশলগত চমক সৃষ্টি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলায় দুজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।
টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। হামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে হোয়াইট হাউস ও সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের সাফল্য যেমন ইসরায়েলের কৌশলগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য হুমকি থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বলয়ে ঘাটতি ছিল কি না—সে প্রশ্ন এখন আলোচনায়।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র খামেনির অবস্থান সম্পর্কে অবগত। শনিবারের অভিযানে একই ধরনের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়েছে বলে এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন গোয়েন্দা স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন