জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের কারো কাছেই ন্যূনতম সুরক্ষা সামগ্রী ছিল না। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিআরইউ এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টি’র উদ্যোগে ও ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় আয়োজিত ‘জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক হ্যান্ডওভার সেরিমনি’ অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন।
শফিকুল আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিকদের কেউই হেলমেট বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করছিলেন না। অথচ সাংবাদিকদের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) কিংবা সম্পাদক পরিষদের মতো সংগঠনগুলো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি সাংবাদিকদের মৃত্যুর পরও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি চোখে পড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, যারা সাংবাদিকদের মাঠে পাঠান, তাদের বড় ধরনের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব কতটা পালন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদেরই সোচ্চার হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা অনেক সময় সরকারের সমালোচনা করলেও প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কথা আলোচনায় আসে না। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ঐক্য যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, এই সময়ে আপনারা কতটা প্রাণ খুলে, মুক্তভাবে সাংবাদিকতা করেছেন, সেটি ভেবে দেখুন। সমালোচনার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, দেশে সাংবাদিকতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা নেই, যার ফলে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়েন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ। এতে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম পেশাজীবীরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন চালু হওয়া ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক’ সাংবাদিকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আইনগত সহায়তা জোরদার করবে। এই ডেস্কের মাধ্যমে মামলা, হয়রানি ও আইনি জটিলতায় পড়া সাংবাদিকরা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম পেশাজীবীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

✍️ মন্তব্য লিখুন