নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।
রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনায় আসছে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।
অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান রয়েছে। তবে তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে।
ইসির আইন সংশোধনের প্রস্তাব
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবেও প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো বিধান রাখা হয়নি।
ইসির প্রস্তাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি, হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান এবং নির্বাচনী অপরাধের শাস্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধনের কথা রয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। সংশোধনী সংসদে পাস না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; তবে অন্যান্য আইনগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত প্রার্থীদের পূরণ করতে হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন